দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লেখা ছোটদের জন্য “বিজ্ঞান কি ও কেন ?” বইটি ছোট ছোট অধ্যায় পোস্ট আকারে দেয়া হচ্ছে । আজ ষষ্ঠ অধ্যায়টি দেয়া হলো ।
নিষ্ঠা নিয়ে দেখা
দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লেখা ছোটদের জন্য “বিজ্ঞান কি ও কেন ?” বইটি ছোট ছোট অধ্যায় পোস্ট আকারে দেয়া হচ্ছে । আজ ষষ্ঠ অধ্যায়টি দেয়া হলো ।
শারীরিক ভাবে আমরা বর্তমানে অবস্থান করলেও মানসিকভাবে বেশিরভাগ সময় অতীত বা ভবিষ্যতে অবস্থান করি । তাই বর্তমানও হারাই, যা এক সময় অতীত হবে । ভবিষ্যতে ভালো কিছুর আশায় বর্তমান ব্যয় করি, সেটাও অনিশ্চিত । বাস্তবতা, বর্তমানে যা আছে, বর্তমান পরিবেশ আর পরিস্থিতির সাথে যত বেশি গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবো তত বেশি মানসিক স্থিরতা, মনোসংযোগ, আত্মতৃপ্তি এবং বাস্তবকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার ক্ষমতা অর্জন করবো ।
‘আপনার জীবনের সুখ নির্ভর করে আপনার চিন্তার ধরণের উপর‘ ।বলেছেন মারকুস অরেলিয়াস । শুধু ভালো চিন্তা করলেই তো হবে না, সেটাকে কাজে পরিণত করতে পারতে হবে । নতুবা রক্তক্ষরণ হবে । সুখ তো দূরের কথা, নিজের উপর রাগ, ক্ষোভ, চাপা গোঙ্গানী হবে । আমার তা’ই হয়; সুন্দর চিন্তার পরও । সুন্দর চিন্তা সুন্দর কিছু পেতে বা করতে ইচ্ছে জাগায় । যখন করা হয় না, তখন তা কষ্টে পরিণত হয় । দ্বিগুণ ।
আদিম কালে মানুষ অবাক হয়ে প্রকৃতি, আকাশ, পাহাড়, নদী, প্রাণী, ঘটনা এবং সর্বোপরি নিজের দিকে তাকাতো । বুঝতে চাইতো, জানতে চাইতো। কেন সে শিকারটি ধরতে পারলো না, কেন সে হিংস্র প্রানীর সাথে পেরে উঠছে না, কেন তার সহযোগী অন্য প্রাণীর খাবারে পরিণত হলো? কি করলে আরো বেশি খাবার যোগাড় করা যাবে? শিকার কিভাবে বেশি করা যায়? কি করলে আরো বেশি বাচ্চা জন্মানো যাবে? তাদের অকাল মৃত্যু কিভাবে রোখা যাবে? ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-ঠান্ডা, আর হিংস্র প্রাণী থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়? কিভাবে খাবার সংরক্ষণ করা যায়? এই সব প্রশ্নই মানুষকে আজকের অবস্থানে পৌঁছুতে সাহায্য করেছে । সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে অন্য সমস্ত আকারে, শক্তিতে বড় প্রাণীকে ধরাশায়ী করে নিজেকে শক্তিশালী আর শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করতে পেরেছে । প্রশ্ন আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে । অজানাকে জানতে, রহস্য উন্মোচনে আর অধিকার ও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ।