Categories
Lifestyle আত্মকথা

একজন সম্ভাব্য লেখকের অপমৃত্যু

‘আপনার জীবনের সুখ নির্ভর করে আপনার চিন্তার ধরণের উপর‘ ।বলেছেন মারকুস অরেলিয়াস । শুধু ভালো চিন্তা করলেই তো হবে না, সেটাকে কাজে পরিণত করতে পারতে হবে । নতুবা রক্তক্ষরণ হবে । সুখ তো দূরের কথা, নিজের উপর রাগ, ক্ষোভ, চাপা গোঙ্গানী হবে । আমার তা’ই হয়; সুন্দর চিন্তার পরও । সুন্দর চিন্তা সুন্দর কিছু পেতে বা করতে ইচ্ছে জাগায় । যখন করা হয় না, তখন তা কষ্টে পরিণত হয় । দ্বিগুণ ।

সব সময়ই লেখার জন্য মন পুড়ে । ইচ্ছে মতো লিখতে পারছি না । গুছিয়ে লিখতে পারছি না । তবে এটাও সত্য লেখার জন্য সময় দিচ্ছি না, চেষ্টা দিচ্ছি না । কখনও চিন্তা করি আগামী কাল থেকে সকাল সকাল উঠে লেখা শুরু করবো । প্রতি দিন লিখবো । আবার চিন্তা করি । রাতের বেলা লেখা আসে । ভাবনাগুলো একটার পর একটা গুছিয়ে আসতে শুরু করে । ভাবনার বিষয়গুলো শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে ধেয়ে আসে । কিন্তু তা’ও হয়ে উঠে না । নিয়মিত লেখার যে একটা বিষয় সেটা কখনও করে উঠতে পারি নি । কিন্তু খুব চাই, খুব চাই লিখবো । মনের যত কথা আছে সব লিখবো । কিন্তু সেখানেও মনে হয়, আমার মনের কথা মানুষ পড়বে কেন? তারা কি পাবে এতে? তাদের জীবনের প্রতিফলন না হলে তো তারা আগ্রহ নিয়ে পড়বে না । মানুষ নিজের স্বার্থ না দেখলে সুখ-ভালোবাসায়ও অবলীলায় অবহেলা করে । কিন্তু আবার মনে হয়, আমি তাদের কথা কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছি? আমি লিখবো আমার জন্য । আমার লিখতে ইচ্ছে করে তাই লিখবো । কে পড়লো আর কে পড়লো না তাতে কি আসে যায়?

আনস্প্ল্যাশ থেকে নেয়া ছবি

মুরাকামি দিনের নির্দিষ্ট সময় লিখেন । সব লেখকদেরই একটা না একটা রুটিন আছে লেখার । সকাল বেলা থেকে শুরু করেন । প্রতিদিন লিখেন । আমি মুরাকামি হতে চাই না । আমি কারো মতোই হতে চাই না । আমি শুধু লিখতে চাই । মুরাকামি কখনও চিন্তা করে তারপর লিখেন না । তিনি লিখতে বসেন, তারপর যা চিন্তায় আসে তা’ই লিখেন । এক নাগারে লিখে সেটার প্রথম ড্রাফট তৈরী করেন । তারপর দ্বিতীয় ড্রাফট । তখন কিছু পরিবর্তন আনেন । এভাবে তিনি লেখা শেষ করেন । আমি অনেক কিছু চিন্তা করি, ভাবি লিখবো । এটা নিয়ে লেখা উচিত, ওটা নিয়েও লেখা উচিত । একটা বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত মনে মনে লেখাটাকে গুছাইও । তখন মনে হয় খুবই সুন্দর, গুছানো লিখা হবে । কিন্তু যখন লিখতে বসি তখন দেখা যায় যেভাবে ভেবেছিলাম, গুছিয়ে এনেছিলাম, সেভাবে লিখতে পারছি না । কোনভাবেই মনে মনে গুছানো সেই কথা গুলো শব্দের আকারে ঠিক হচ্ছে না । তখন অস্থির লাগে । আবার গুছাতে যাই অমন করে । অনেক চেষ্টা করি, মনে করার আপ্রাণ চেষ্টা করি । কিন্তু সেই প্রথম বার মনে মনে গুছানোর মতো করে আর হয় না ।

অন্যদিকে বুকস্কী লিখেছেন বিপ্লবীর মতো । ওনার লেখায় কখনও মনে হয় না ওনি যা লিখতে চেয়েছেন তা ঠিক তেমন ভাবেই লিখতে পারেন নি । মনে হয়, ওনার মনে যা এসেছে তা’ই ঠিক সেভাবেই লিখেছেন । কখনও ভাবেন নি এটা এভাবে লিখলে পাঠক কি মনে করবে । এমন সহজ স্বাবলিল ভাবে লিখেছেন যেন মনে হচ্ছে, কাছের দুই বন্ধু গল্প করছে । কোন রাখ-ঢাক নেই, কোন ভণিতা বা লোকানোর কিছু নেই । একদম মনের সব কথা মনের মতো করেই বলে যাওয়া । এখানে যা যেভাবে বলা হয়েছে তা সেভাবে বললেই সবচেয়ে ভালোভাবে বলা সম্ভব । রাখ-ঢাক করতে গেলে মূল ভাব হারাবে, লেখা হয়ে যাবে প্রাণহীন । পান্ডিত্য বা বড় লেখক প্রমাণ করার কিছু নেই । আমার লেখা আমার মতো করে লিখবো । ভালো লাগলে পড়ো, নয়তো ফেলে দাও । বুকস্কী বাস্তবিক জীবনেও এমনই ছিলেন । ডোন্ট গিভ এ ফাক টু এনিথিং ধরণের । সে তাঁর মতো তাঁর জীবন উপভোগ করেছেন এবং সেটা সম্পর্কে তার কোন গিলটি বোধ বা হীনমন্যতা ছিলো না । কাউকে খুশি করার জন্য কিছু করতেন না এবং সে ব্যাপারে তার কোন কেয়ারও ছিলো না । তার লেখায় তার সে জীবন ধারা ফুটে উঠে । সে তার দোষগুলোকে কখনও লোকাতে চান নি বা সেগুলোকে কোন কিছুর মাধ্যমে মুড়িয়ে অন্য কিছুও দেখাতে চান নি । তিনি যা, তিনি তা’ই । সেটাকে তিনি দু’হাত মেলে গ্রহণ করেছেন । উপভোগ করেছেন । অভিনয় বলে কিছু ছিলো না তার মধ্যে । কোন মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হলে তিনি কখনও তা লুকাতেন না । অবলীলায় প্রকাশ করতেন তার মনের ভাব । অপরদিকে ঐ মহিলা আকৃষ্ট না হলে তিনি কষ্ট পেলেও সেটাকে ধরে রাখতেন না বা প্রতিশোধ পরায়ণতা তার মধ্যে কাজ করতো না । জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকে তিনি সর্ব্বোচ্চ উপভোগ করেছেন । সেখানে কোন উচিত, অনুচিত, কি হলে কি হতো, কে কষ্ট পেল বা পেল না ছিলো না । নিজের সুখের ঘোড়াকে তিনি কখনও রুখেন নি । সেটা হোক মেঝেয় পড়ে থাকা ভাঙ্গা বোতলের আধ চুমুক মদ বা এয়াপোর্টে বসে থাকা কোন মহিলার উরু দেখা বা লম্বা সময় লিডিয়ার সাথে প্রেম আর ঝগড়ার সম্পর্ক । সে প্রতি মুহূর্তের সুখকে গণ্য করেছেন অপার্থিব আকারে ।

আনস্প্ল্যাশ থেকে নেয়া ছবি

জীবন যে রকম সে রকম ভাবেই গ্রহণ করতে পারাটা একটা বিশেষ গুণ । যা হয়তো আমরা অনেকেই অভ্যস্ত না বা গ্রহণ করতে চাই না । তার আগে হয়তো আমরা কি চাই, আসলেই কি চাই তা জানি না । বা জানলেও সেটাকে প্রকাশ করা যা প্রকাশ করার পদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম বা নেই বা করি না । লেখার ব্যাপারে আমার যেমন হচ্ছে । জানি কত্ত কিছু লিখে প্রকাশ করতে চাই । কিন্তু পারছি না । নিয়মিত বসে লেখার চেষ্টা করে যে দেখবো, আলসেমির জন্য তা’ও হচ্ছে না । আলসেমি করছি । সেটা নিয়েও অপরাধবোধ হচ্ছে! বারট্রান্ড রাসেলের আলস্যের জয়গান বেশ ভালোরকম প্রভাবই ফেলেছে আমার উপর । আলস্য পর্যন্তই যাই, আলসেমি করি, কিন্তু তারপর সেটা থেকে নিংড়ে যে রস বের করতে হবে সেটা অবহেলা করছি । রাসেল বেটা ঠিকই অলসতাকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করে গেছেন । কিন্তু আমি তো তার প্রথম অংশটুকু, অলসতা, নিয়েই আছি । বাকী অর্ধেক নিয়ে হা-হুতাশ করছি ।

একটা সময়, সেই নব্বই এর দশকের শেষের দিকে, যখন লেখালেখি শুরু করি, তখন খুব রুটিন মেনে চলতাম । সারা দিনের, সপ্তাহের, মাসের এমনকি বছরের রুটিন তৈরী করা থাকতো । নিয়মিত ডায়েরী লিখতাম । সেই ডায়েরীগুলো কোথায় আছে? আছে হয়তো কোথাও! তো, সেই রুটিন মেনে চলায় একটা একমপ্লিশমেন্ট এর স্বাদ পাওয়া যেতো । সারা দিন কত্ত কিছু করতে হতো । পত্রিকার জন্য লেখা, অন্যের লেখা বাছাই, সম্পাদনা, সেটা পরিবর্তন-পরিমার্জন, কম্পিউটারে কম্পোজ, পত্রিকার আকারে সেট-আপ দেয়া, সেটার প্লেট করা, ছাপানো, বাঁধাই করা, পোস্ট করা, বুক স্টলে দেয়া, পরের সংখ্যার প্লানিং, লেখা তৈরী ইত্যাদি ইত্যাদি কত কিছু । সময়গুলো যেনো প্রাণময় ছিলো । কাজ আর কাজ । কাজই জীবন, জীবনই কাজ । কত শত মানুষের সাথে কথা বলা, উঠা-বসা । এখন যেনো কেমন ঘরকোণা, প্রাণহীন, ছা-পোষা হয়ে গেছি । মানুষ বিরক্তিকর লাগে । কিন্তু মানুষের প্রতি আগ্রহ কমে নি । আরো অনেক গুণ বেড়েছ । আগে যেমন যে কারো সাথেই হোক অনর্গল গল্প-তর্ক চালাতে পারতাম । এখন কেমন একপেশে লাগে । মনে হয় খোলসের সাথে খোলসের ঠুকা-ঠুকি । ভেতরে কিছু নেই । ওজন নেই । শুধু বাতাস আর বাতাস । হিলিয়ামের বেলুনের মতো ছেড়ে দিলেই উড়াল দিয়ে গায়েব । ধরে থাকতে হয় সারাক্ষণ । ওজন নেই বলে হাওয়ায় ডানা মেলে সহজেই । কিন্তু ধরে রাখাটাই কি জীবন? সম্পর্ক? নাকি থাকাটাই?

ঠিক করতে পারছি না, সেই রুটিনে ফিরে যাবো? না-কি এভাবে যেভাবে চলছে চলবে । এলোপাথারি । ইচ্ছের ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে জীবন পার । হিলিয়ামের বেলুনের মতো বাতাস যেদিকে নিয়ে যায় সেদিকেই । কিন্তু এটাতেও প্রাণ খুঁজে পাচ্ছি না । রুটিনে যাওয়ার জন্য নিজেকে যে পরিমাণ ঘষা-মাজা করতে হবে সেটাও করতে ইচ্ছে করছে না । নিজেকে যে পরিমাণ কঠোর হাতে ঠ্যাঙ্গাতে হবে সেটা করা হয়ে উঠছে না । আবার আলসেমিও মেনে নিতে পারছি না । কিছু করছি না । সেটা জ্বালা দিচ্ছে । কিছু করা হচ্ছে না । আবার মাঝে মাঝে মনে হয়, কিছু করতেই হবে কেনো? কিছু না করেই কাটিয়ে দেয়া যায় না? কেন লিখতে হবে? কেন লেখক হতে হবে? কেন মানুষ আমার লেখা পড়বে? পড়লেই বা কি এমন উদ্ধার হয়ে যাবে? বুকস্কী লেখা দিয়ে তার জীবিকা নির্বাহ করতেন । পোস্ট অফিসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে লেখক হয়েছিলেন । যে সামান্য কিছু আয় হতো তা দিয়েই তার মূল প্রয়োজনীয় উপাদান মদের যোগান হয়ে যেতো । আমিতো সে রকম মদও পান করি না । সোস্যালী হয়তো কিছুটা পান করি, কিন্তু মদ আমাকে বিশেষ একটা টানে না । বিয়ার সে তুলনায় অনেক ভালো লাগে । তবে সে লেখার মাধ্যমে যথেষ্ঠ পরিমাণ মেয়ের সান্যিধ্য পেয়েছেন । অসংখ্য মেয়ের সংস্পর্শ দিয়েছে তাঁর লেখা তাকে । তাও সেটা সেই তিরিশ শতকে, গত শতাব্দীর, গত শহস্রাব্দের । লেখকদের প্রতি একটা বিশেষ আকর্ষণ কাজ করতো তখন মেয়েদের ।  এখনও কি সেটা আছে? কোন একজন লেখকের সাথে ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে হবে!

আর একটা বিষয় । আমি কবিতা লিখতে পারি না । একেবারেই না । পড়তেও পারি না খুব একটা । বাধ্য হয়ে যেগুলো পড়তে হয়েছে সেগুলো ছাড়া আমার জীবনে কোনদিন কবিতা পড়া হয়নি বললেই চলে । মেয়েরা কবিতার প্রতি বিশেষ দূর্বল । কেউ দু’লাইন কবিতা আবৃত্তি করলে বা দিলে তারা তার মধ্যে অনেক কিছু খুঁজে পায়, বিশেষ করে রোমান্টিকতা । আমি কবিতা পড়ায় দুর্বল, কবিতায় মেয়েদের দূর্বলতা, লেখা তো চিন্তাও করা যায় না । তবে, একটা সময় কিছু কবিতা লেখার চেষ্টা করি । সেগুলো অবশ্যই প্রেম বিষয়ক না । যতদূর মনে পড়ে, প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ বিষয়ক । কবিতায়ও আমার কাঠ-খোট্টার ছাপ । বুকস্কীর কবিতা তাকে সে সুযোগ করে দিয়েছিলো । প্রতিটা কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানের পর তার সাথে শোয়ার জন্য মরিয়া হয়ে থাকতো । এমনকি খুব বেশি উপন্যাস বা গল্পও পড়া হয়ে উঠে নি আমার । মাঝে-সাঝে পড়েছি । মূলত পড়েছি প্রবন্ধ, বিজ্ঞান, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, কুসংস্কার বা ডিজাইন ইত্যাদি ইত্যাতি সব কাঠ-খোট্টা বিষয় নিয়ে । এ সব বিষয় নিয়ে পড়তে পড়তে আর ভেবে ভেবে আমি নিজেও বেশ প্রো-লেভেলের কাঠ-খোট্টা হয়ে গিয়েছি । অনেকেই রোবট বা প্লাস্টিক বলে সম্বোধন করে । সাহিত্য গভীরভাবে না পড়ার কারণে আবেগ প্রকাশে বেশ বেগ পেতে হয় । বুঝতে গেলে তো হাড্ডা-হাড্ডির আওয়াজ পাওয়া যায় । বিজ্ঞান লেখক হিসেবে লেখা শুরু করার ফলশ্রুতি হিসেবে পড়ার আর লেখার পরিধি ঐ দিকেই গিয়েছে । সেগুলো উপভোগও করি । এমন না যে উপন্যাস উপভোগ করি না বা ভালো লাগে না । তা লাগে । পড়েছিও অনেক । বাংলা একাডেমীর নজরুল রচনা সমগ্র দুই সপ্তাহের পড়ে শেষ করেছি । খুবই খড়খড়ে তাঁর লেখা । শরৎচন্দ্র রচনা সমগ্র পড়েছি এক সপ্তাহে । দিন রাত ।

আর একটা বিষয়, একবার একটা লেখার ড্রাফট হয়ে গেলে সেটা আর পড়তে ইচ্ছে করে না । এ এক আজব সমস্যা । সেটাকে যে ঘষে-মেজে ঠিক করবো সে ইচ্ছে জাগে না । প্রসব বেদনায় অস্থির হয়ে পরবর্তীতে আর সেটাকে যত্ন নেয়া হয়ে উঠে না । সেটা কাটিয়ে উঠা দরকার । সেটাও করা হয়ে উঠছে না । ভীষণ বানান ভুল হয়, ব্যাকরণের তোয়াক্কা করি না । কখনও ব্যাকরণ মনোযোগ দিয়ে শিখিই নি । সেটা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝাচ্ছে, পড়ায় ফাঁকি দেয়ার মজা । লেখা শুরু করি, কিন্তু শেষ হয়ে উঠে না । করতে চাইলেও দেখা যায় যে ভাবে শুরু করেছি, বা যে প্লান নিয়ে শুরু করেছিলাম যে লেখাটা কেমন হবে, তা যখন হয়ে উঠে না, তখন আগ্রহ থাকে না সেটা ঠেলে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার । কিন্তু শেষ করছি না বলে বেশ রক্তক্ষরণও হয় । নিজেকে গালি দেই । অপদার্থ বা আমাকে দিয়ে হবে না বলি । আবার নিজেকে ‘পারি না’ বলতেও বেশ গায়ে লাগে । আবার পারার জন্য যা করা দরকার তা’ও করতে পারি না । এ যেন একই চরকায় চক্রাকারে চক্রিত হচ্ছি । গান্ধি দাদুর চরকা আমায় ভালোই পেয়ে বসেছে ।

অনুবাদ করতে ভীষণ ভালো লাগে । তবে সেখানেও অলস্যের জয়গান গেয়ে যাচ্ছি । পপুলার সায়েন্স ম্যাগাজিন থেকে ছোট ছোট বিজ্ঞান সংবাদ অনুবাদ করার মাধ্যমে অনুবাদের প্রতি অনুরাগ তৈরী হয় । সেটা এখনও সেই আগের মতোই কাজ করে । অনুবাদ করতে বসলে নিজেকে প্রাণবন্ত লাগে । কত কিছু অনুবাদ করতে গিয়ে যে মাঝখানে ফেলে রেখেছি তা’র হিশেব নেই । এই ঠিক করি আজ থেকে লিখবো । প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় কিছু না কিছু লিখবো । আজকে লিখি । কালও হয়তো লিখলাম । কিন্তু তারপরই শুরু হয়ে যায় আলস্যের জয়গানের প্রথম অংশের বন্দনা । সেটা চলতেই থাকে, চলতেই থাকে । সেখান থেকে বের হওয়া আর হঠে উঠে না । আবার হয়তো অনেক দিন পর মাথা চাড়া দিয়ে উঠে লেখার কুড়কুড়ানি । তখন আবার সেই গোল্লায় পড়ে যাই । গোল্লায় পড়ে নিজের সাথেই চক্কর খেতে থাকি । কি করা উচিত, কি করা উচিত না সবই জানি । অন্যকে খুব ভালো সাহায্য করতে পারি এমন অবস্থা থেকে উতরে উঠার জন্য । কিন্তু বিধিবাম, নিজেকেই টেনে তোলতে যত সমস্যা । আমাকে কে বের করবে গান্ধী দাদুর এই চরকা থেকে? অন্যকে টেনে তোলা বাদ দিয়ে নিজেকেই টেনে তোলার সিদ্ধান্ত নেই । কিন্তু সেটাও করা হয়ে উঠে না । নিজের চক্করে লক্কর-ঝক্কর করে চক্কর কাটি ।

আমার বুঝি কোন দিন লেখক হয়ে উঠা হয়ে উঠবে না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *