আদিম কালে মানুষ অবাক হয়ে প্রকৃতি, আকাশ, পাহাড়, নদী, প্রাণী, ঘটনা এবং সর্বোপরি নিজের দিকে তাকাতো । বুঝতে চাইতো, জানতে চাইতো। কেন সে শিকারটি ধরতে পারলো না, কেন সে হিংস্র প্রানীর সাথে পেরে উঠছে না, কেন তার সহযোগী অন্য প্রাণীর খাবারে পরিণত হলো? কি করলে আরো বেশি খাবার যোগাড় করা যাবে? শিকার কিভাবে বেশি করা যায়? কি করলে আরো বেশি বাচ্চা জন্মানো যাবে? তাদের অকাল মৃত্যু কিভাবে রোখা যাবে? ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-ঠান্ডা, আর হিংস্র প্রাণী থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়? কিভাবে খাবার সংরক্ষণ করা যায়? এই সব প্রশ্নই মানুষকে আজকের অবস্থানে পৌঁছুতে সাহায্য করেছে । সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে অন্য সমস্ত আকারে, শক্তিতে বড় প্রাণীকে ধরাশায়ী করে নিজেকে শক্তিশালী আর শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করতে পেরেছে । প্রশ্ন আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে । অজানাকে জানতে, রহস্য উন্মোচনে আর অধিকার ও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ।
সেই আমরাই দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রশ্ন করে থাকি । প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে, তাচ্ছিল্যে, শাসনে, জ্ঞানে বা অজ্ঞানে । অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও আজ অতি মামুলি হয়ে গিয়েছে । শুনতে শুনতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি যে সেগুলো ভাবার বিষয় বলে মনে করি না । কিন্তু সে প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বা করতে পারে ।
বিশেষ করে নিজেকে নিজের ব্যাপারে প্রশ্ন করা । সুখ, শান্তি আর আত্মতৃপ্তির জন্য নিজেকে জানা-বুঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এই জানা-বুঝার একমাত্র উপায় হলো প্রশ্ন করা আর তার সদোত্তর বের করা । কখনও কখনও সে উত্তরগুলো অপ্রিতিকর হলেও ।
তাই তো এ্যরিষ্টটল বলেছেন “নিজেকে জানো” ।
কে?
কে তুমি?
কে আমি?
কে আমাকে সৃষ্টি করেছে?
কে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে?
কে আমাকে পৃথিবীতে এনেছে?
কে আমাকে কিভাবে দেখে/গ্রহণ করে?
কি?
নাম কি?
কি কর?
কি চাই?
কি হবে?
করে কি?
কি হচ্ছে?
কি কাজ?
কি কারণ?
কি করছি?
কি করবো?
আপনার কি?
সমস্যাটা কি?
সে কি করবে?
তুই কি মানুষ?
ওর কি হয়েছে?
আমার কি দোষ?
লোকে কি বলবে?
কি এমন জিনিষ?
কি আছে জীবনে?
কি জন্য এত্ত কিছু?
কি করলে কি হবে?
কি করলাম জীবনে?
নিজেকে কি মনে কর?
কি করলে পয়সা আসবে?
আমি কি এই চেয়েছিলাম?
এখন বলেন কি করতে হবে?
কি হবে এই দেশের / জাতির?
কি করলে আমি তাকে পাইবো?
আমি কি এই জীবন চেয়েছিলাম?
আমার মধ্যে কি নেই যা ওর আছে?
কি করে/জন্য এমন (সে) এমন হলো?
কখন?
কখন হবে?
কখন যাবি?
কখনও যদি?
কখন পাবো?
কখন ঘুমাবো?
কখন শিখবো?
কখন পৌছাব?
কখন বড় হবো?
কখন সুস্থ হবো?
কখন শুরু হবে?
কখন শেষ হবে?
কখন সুখি হবো?
কখন মুক্তি পাবো?
কখন হয়ে গেলো?
কখন যোগ্য হবো?
কখন খেতে পাবো?
কখন বিয়ে করবো?
কখন দুর্নিতীমুক্ত হবে?
কখন তোর সুমতি হবে?
কখন আমাদের উন্নতি হবে?
কোথায়?
কোথায় যাচ্ছি?
কোথায় আছো?
সমাধান কোথায়?
সমস্যাটা কোথায়?
কোথায় যেতে চাও?
সুখ/শান্তি/টাকা কোথায়?
কোথায় গেলে তারে পাবো?
কোথায় শুরু কোথায় শেষ?
কেন?
কেন হচ্ছে?
ঘৃণা কর কেন?
মরস না কেন?
ভয় পাস কেন?
বেশি নিছস কেন?
লাইন মারো কেন?
তুমি কেন পারো না?
আমি কেন পারি না?
তোর কেন এমন হলো?
কেন এমন হলো/হচ্ছে?
তুই এত ডিপ্রেসড কেন?
সে কেন আমার হলো না?
সে কেন আমাকে দিলো না?
আমি কেন ওর মতো হতে পারি না?
আমরা কেন ওদের মতো হতে পারি না?
কিভাবে?
কিভাবে কি?
কিভাবে পারলি?
সে কিভাবে পারে?
সফল হওয়া যায় কিভাবে?
সে কিভাবে এত বড়লোক হলো?
এবং আরও প্রশ্ন….
ধার?
শুরু?
শেষ?
খাবে?
ঘন্টা?
আছো?
করেছো?
ভয় নাই?
যাইবেন?
প্রাইভেট?
কই পাই?
কিনবেন?
দাম কত?
হুক আপ?
মিস করো?
কাজ শেষ?
বেতন কত?
বয়স হইসে?
ভালোবাসো?
বিদেশ যাবি?
টাকা দিবেন?
টাকা কামাবি?
কেমন আছো?
ইজ্জত মারবি?
দয়া-মায়া নেই?
আমারে চেনো?
মাইরা ই ফেল্লো?
মোবাইল নাম্বার?
সময় বদলাইসে?
এর শেষ কোথায়?
মানুষ হবি না তুই?
বেচা-বিক্রি আছে?
জীবনের দাম নাই?
বিয়া করস না কেন?
আমাকে ভালো লাগে?
আমার কোন দাম নাই?
মরলে কবরে নিয়া যাবে?
হোয়াট্স অন ইউর মাইন্ড….?

2 replies on “প্রশ্ন”
ইন্টারেস্টিং লিস্ট হচ্ছে একটা! জানি না কতখানি প্রাসঙ্গিক হবে, তবুও আরো কিছু প্রশ্ন জাগে করতে চাই-
কে বলছে?
কেন বলছে?
আমার কি?
তোমার কি?
কে করছে?
কিভাবে হলো?
কোন কারণে হলো?
কেন করবো?
কিভাবে করবো?
কোথায় যেতে হবে?
কিভাবে যাবো?
কে সাথে যাবে?
অনেক ধন্যবাদ । ওগুলো মিস করে গিয়েছিলাম ।