Categories
Culture Lifestyle Wellness

অভ্রর চুল কাটা

পরিবারের সদস্যদের আর প্রিয়জনদের সাথে এসব কাজ করার যে আনন্দ তা অমূল্য । সময় খুব ভালো কাটে, আনন্দের স্মৃতি হয়ে রয়ে যায় আজীবন ।

অভ্র দুটো ব্যাপারে খুবই সৌখিন । তার চুল আর জুতা । চুল তার ছোট করা যাবে না, ন্যাড়া করার তো প্রশ্নই উঠে না । সে কখনই মাথা ন্যাড়া করেনি, একবারও না । চুল দিয়ে তার কপাল ঢেকে থাকতে হবে । আর জুতা কিনতে হবে তার পছন্দ মতো । তার অন্য যে কোন কিছু একটা হলেই হলো, কোন সমস্যা বা অভিযোগ নেই । কিন্তু জুতা হতে হবে তার নিজের পছন্দ মতো । নিজে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে দেখে-শুনে কিনবে ।

কোয়ারেন্টিনের কারণে চুল বেশ বড় হয়ে গিয়েছে ওর । সেলুনে যাবে না । করোনার ভয় । চুলও কাটাবে না  । আর এ উপলক্ষে তার অনেক দিনের “সেক্রেট ইচ্ছা” পূরণ হবে । চুল অনেক বড় করা ! কিন্তু সমস্যা হলো, এই গরমে মাথা চুলকায় আর চুলকায় । প্রচন্ড ঝামেলা করছে এই গরম। ঘেমে-নেয়ে অস্থির হয়ে যায় । তাই নিজেই আমাকে বললো চুলগুলো একটু, “একটু” কেটে দাও তো । শুধুমাত্র কানের উপরের, আর পেছন দিককার । অন্য কোথাও কাটা যাবে না । ক্লিয়ার ইনস্ট্রাকশন দিয়ে, আমাকে বুঝালো । তারপর আমি বুঝেছি কি-না যাচাই করে কাটতে দিলো । তাই ভয়ে ভয়ে তার চুল ট্রিম করা শুরু করলাম । বাসায় চুল কাটার কাঁচি আর চিরুনি, কোনটাই নেই । একটু পর পরই বলছিলো, দেখিতো কতটুকু কেটেছো । তাই তাকে দেখাতে হলো আর কাটতে হলো, পরবর্তী ধাপ কেমন হবে সে দিকনির্দেশনা সহ । ফুপিকে সামনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে আমার উপর লক্ষ রাখার জন্য। যেন বেশি কেটে ফেলতে না পারি ।

একটু এদিক-সেদিক হলে আজীবন তার কথা শুনতে হবে । সে কোন কিছু ভুলে না সহজে । ভয় আর সাবধানতার সাথে বেশ সময় নিয়ে চুল কাটতে সক্ষম হলাম ।

সে বেশ খুশি । আমিও খুশি । কানের পাশ দিয়ে গুলিটা গেল ! এ যাত্রায় মান-ইজ্জত নিয়ে বাঁচা গেল । যদিও হঠাৎ একটু নড়ে একটা জায়গায় হালকা চুল বেশি কেটে গেছে । আমিও চেপে গিয়েছি, সে খুব একটা টের পারনি । যখন লক্ষ করবে আমাকে ধরবে ।

ওর চুল কাটতে গিয়ে বুঝলাম, খুব বেশি কঠিন কিছু না । তবে একটা কাঁচি আর একটা চুল কাটার চিরুনি হলে আরো সুবিধা হতো । কিনতে হবে । এ যাত্রায় ট্রিমার দিয়েই কাজ সারতে হলো ।

মুল কথা হলো, পরিবারের সদস্যদের আর প্রিয়জনদের সাথে এসব কাজ করার যে আনন্দ তা অমূল্য । সময় খুব ভালো কাটে, আনন্দের স্মৃতি হয়ে রয়ে যায় আজীবন । এ ধরেণের কাজগুলো আমরা অনায়াসেই বাসায়ই সেরে ফেলতে পারি । একটু হয়তো শিখে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে । কিন্তু সেটা অনেক বেশি আকারে ফেরত আসবে । টুক-টাক খরচ তোর বাঁচবেই, সাথে সময়টাও সুন্দর, আনন্দময় হয়ে উঠে ।  ঘরের কাজ নিজে আর পরিবারের সাথেই যত বেশি করা যাবে পারিবারিক বন্ধন, পরিবারের অন্যদের সাথে সম্পর্ক আর বন্ধন আরো বেশি গাঢ হয় । তাই চলো সবাই পরিবারের কাজ আরো বেশি বেশি করি, প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটাই, আর এসব ঘরোয়া কাজ একসাথে মিলেমিশে করি । পরিবারের অন্যদের ছোট-খাটো কাজে সাহায্য করি । নিজেদের কাজগুলো নিজেরা সবাই মিলে-মিশে করি ।

বড়দের কাজ করতে দেখেলে ছোটরাও দেখে দেখে শিখে আর নিজে কাজ করতে উৎসাহ পায় । ছোটকাল থেকে তাদের সব রকম কাজের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরী হয় । কোন কাজকেই ছোট বলে মনে করে না । ওরাও কাজ করতে আনন্দ পায় ।

চুল কাটার আগের অবস্থা
আমরা চুল কাটতে যাচ্ছি, ইয়ে……

চুল কাটার পরের অবস্থা: পেছন দিকে

চুল কাটার পরের অবস্থা: বাঁ দিকে

চুল কাটার পরের অবস্থা: ডান দিকে

চুল কাটার পরের অবস্থা
চুল কাটার পরের অবস্থা: সামনের দিকে

4 replies on “অভ্রর চুল কাটা”

Avro ke dekhe khub bhalo lagtese. Nice cutting maq bhai.

khub bhalo lglo pore and eid mubarak to you and family.

“বড়দের কাজ করতে দেখেলে ছোটরাও দেখে দেখে শিখে আর নিজে কাজ করতে উৎসাহ পায় । ছোটকাল থেকে তাদের সব রকম কাজের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরী হয় । কোন কাজকেই ছোট বলে মনে করে না । ওরাও কাজ করতে আনন্দ পায় “

ekdom thik bolsen bhaiya 😍

সামনের চুল একটু বেশি ছোট হয়ে গেছে মনে হচ্ছে :-p অভ্র সম্ভবত ভাল মুডে ছিল বলে কিছু বলেনি।

জোক্স এপার্ট, সুন্দর সাবলীল লেখায় পারিবারিক বন্ধনের গভীরতার মাহাত্ম্য আমাদের সাথে ভাগ করে নেবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

আচ্ছা ভাই, নিয়মিত এমন লেখা লিখবেন তো?

মাত্র তো শুরু করলাম । দেখা যাক কতদিন নিয়মিত দিতে পারি । চেষ্টা করবো নিয়মিত লেখা লিখতে । নতুন বিষয়ে কোন সাজেশন থাকলে জানিও ।

অভ্র এর সাস্থ টা ভাল হয়েছে, অর চোখের রঙ নিল নাকি।আসলেই বাচচারা কাজ তখন শেখে যখন দেখে বারির বড়রা কাজ করছে।বাচ্চাদের বই এ এধরনের বেপার গুল থাকলে ভাল হত।আর স্রিতি, এইগুলই ultimately golden memory হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *