লেখক: দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
প্রথম সংস্করণ অক্টোবর ১৯৮৩
দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লেখা ছোটদের জন্য “বিজ্ঞান কি ও কেন ?” বইটি ছোট ছোট অধ্যায় পোস্ট আকারে দেয়া হচ্ছে । যেন তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে এক একটি অধ্যায় পড়ে শেষ করা যায় ।
আজ প্রথম অধ্যায়টি দেয়া হলো ।
বই পড়ার কোন বিকল্প নেই । বই পড়ার উপকারিতা আর প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না । ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা জাতিগত এবং সর্বোপরি বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য বই পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম । বই আমাদের কল্পনার পরিধি বাড়িয়ে দেয় । এক একটা বই এক একটা নতুন বিশ্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । চিন্তা করার, সম্ভবনার সীমা উন্মোচন করে । জানার আগ্রহ তৈরী করে । কি জানি না সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় । বই আমাদের নমনীয় হতে, অন্যের প্রতি সহনশীল আর সহানুভূতিশীল হতে সাহায্য করে । দ্বিমতকে সহজ-স্বাবলীলভাবে গ্রহণ করতে এবং গুছিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। “আমিই সেরা, আমিই সঠিক” এমন তরো গোয়াড়েপনা থেকে নিজেকে মুক্তি দেয়ার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ যন্ত্র হলো বই ।
মানব জাতির এ পর্যন্ত আসার এবং উন্নতির পেছনে বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে । পাহাড়ের গোহায় ছবি আঁকা থেকে শুরু করা পর্যন্ত আজকের ই-বুক রিডার, ওয়েব, অডিও বুক সবই জ্ঞান আহরণের মাধ্যম । একজনের জানা বিষয়কে অন্যর কাছে পৌঁছে দেয়া । একের জ্ঞান অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া । জানার পরিধি বাড়ানো । দুষ্টিভঙ্গির পরিধি বাড়ানো । কি সম্ভব আর সম্ভব না তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া । যে কোন ভাবেই হোক, জানাটা গুরুত্বপূর্ণ । জ্ঞান আহরণ করাই লক্ষ্য ।
প্রযুক্তির উন্নয়ন, মানুষের ব্যস্ততা, আর শত জিনিষের ভীড়ে আমরা বই পড়াকে সামান্যই গুরুত্ব দেই ইদানিং কালে । কিন্তু বই পড়া বা বইএ যা লিখা আছে সেটা নেয়া, বুঝা, গ্রহণ করা, বাদ দেয়া, সেটা নিয়ে তর্ক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তাই বই হয়তো বই আকারে পড়া হয়ে উঠে না । আমরা স্ক্রিনে বেশি সময় ব্যায় করি । তাই বইকে এই স্ক্রিনে এনে সহজলভ্য করে পড়ার উপযোগী করে দেয়াই আমার লক্ষ্য । হয়তো হাতে গুনা কয়েকজন পড়বে । কিন্তু যে কয়জন পড়বে তাদের তো চিন্তার পরিধি বাড়বে । সেটাই কম কি । যে দেবতা যে পূজায় সন্তুষ্ট্য !

খবর পাবার খবর
ছাদের টবে টুকটুকে লাল ফুল ফুটেছে।
কী করে জানলাম ? বারে, স্বচক্ষে দেখলাম যে !
পাশের বাড়ির নেড়ী তারস্বরে গলা সাধছে।
কী করে জানলাম ? বারে, কান একেবারে ঝালাপালা হয়ে গেলো যে !
চায়ের বাটিতে চুমুক দিয়েই বুঝলাম, চিনি ভেবে তুমি ভুল করে নুন দিয়েছো।
কী করে জানলাম ? বারে, বারে, নুনের চোটে জিভ যে পুড়ে গেলো !
আহা, অমন সুন্দর চা । কী অপরূপ না গন্ধ !
কী করে জানলাম ? বারে, চায়ের বাটিটা নাকের কাছে তুলতেই গন্ধ পেলাম যে !
নুন দিয়ে অমন ভালো চা-টা নষ্ট করেছো বলায় চটে গেলো নাকি ? তাহলে এসো, তোমার টাকে হাত বুলিয়ে একটুখানি আদর করে দি ! আহা, মরি, কী মসৃণ তোমার মাথার চুকচুকে ওই টাকটি । কী করে জানলাম ? বারে, নিজের হাতে স্পর্শ পেলাম যে !
