পরীক্ষামূলক অণুগল্প লেখার চেষ্টা । জীবন্ত বা মৃত বা বিগত বা আগত কারো সাথে মিলে গেলে তা একান্তই অনাকাঙ্খিত । কাউকে বিচার করা, ভালো বা মন্দ তুলে ধরা না । কাউকে উদ্দেশ্য করে তো অবশ্যই না । আমাদের আশে-পাশে ঘটা ঘটনা, কিছু পরিচিত, অপরিচিত, সাথে এক ফোঁটা কল্পনা মিশ্রিত করে গল্পের সূচনা ।
সুখী সংসারের অধিকারিণী দুই বাচ্চার মায়ের নয়া প্রেমিকের কাছে একমাত্র আবদার “লয়্যাল হতে হবে!”
আর যা ইচ্ছে তা করো, কোন আপত্তি নেই ।
এত্ত দিন অত-শত কথা বলার পর সেক্স করতে না দেয়ায় ছেলেটি তার বন্ধুকে জানালো “তোর বউটারে দেখে রাখিস, সে চরিত্রহীনা” ।
স্ক্রিনশট দেখিয়ে প্রমাণও দিয়ে দিলো ।
“অর্থই অনর্থের মূল” ভাবধারা শেখানো শিক্ষক ছাত্রের প্রাইভেটের টাকা বাকি পরায় পরীক্ষার খাতায় কম নাম্বার দিয়ে দিলো ।
“যে খরচ বেড়েছে…” বলে পরের মাস থেকে টাকাও বাড়িয়ে দিলো কিছুটা ।
নামাজ শেষে উপরি নেয়া অফিসার টেবিলের সামনে অপেক্ষায় থাকা লোককে সাফাই দিলো “নামাজ-কালাম পড়েন না কেন? খালি ব্যবসা দিলেই হবে? পরকালে তো জাহান্নামে যাবেন!” ।
তারপর থুথু দিয়ে গুনে টাকা রেখে কাগজে সই দিয়ে ব্যবসার উন্নতির জন্য দোয়া করলো ।
সব ছেলে একই, চরিত্রহীন, জন্মগত রেপিস্ট, বলা মেয়েটাও একদিন ছেলের মা হবে ।
পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তার বাবা ।
আজ তুমি মেয়ে বলে তোমার প্রতি আমার যে দৃষ্টিভঙ্গি তা’ তৈরী করেছে তোমার মতোই অন্য কোনো মেয়ে ।
আমার প্রতি তোমার যে দৃষ্টিভঙ্গি তা’ও তৈরী করেছে আমার মতো অন্য কোনো ছেলে ।
“মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব” বয়ান করা হুজুর মসজিদের দরজায় বসা কুকুরকে লাথি মেরে ওজু নষ্ট হওয়ার ভয়ে নাউজুবিল্লাহ পড়ে ।
মুসুল্লির বাসায় দুপুরের খাবার নিয়ে ভাবি বসে আছে বলে তড়িঘড়ি ছুটে ।
রক্তের দোষে দুষ্ট বলে বেদম পিটানো মা’ও তার মাতৃত্যের অধিকার ছাড়তে নারাজ ।
তার ধনবান ছেলে আজ পরিবারের গর্ব ।
ভালোবাসা অধিকার না, দায়িত্ব । তাকে তার মতো বিকশিত হতে সাহায্য করায় ।
ভালোবেসে সখি বাঁধিনু তোরে এবার পালাবি কোথায়!
আমি তোমাকে ভালোবাসি, তা’ই আমার ভালোবাসার সব আবদার মেনে নিতে পারতে হবে । তুমি তো বাসো না!
তারপর, “ভালোবেসে সঅব দিয়ে দিলাম” ভেবে আত্মতৃপ্তির নিশ্বাস ছাড়ে ।
