দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লেখা ছোটদের জন্য “বিজ্ঞান কি ও কেন ?” বইটি ছোট ছোট অধ্যায় পোস্ট আকারে দেয়া হচ্ছে । আজ ষষ্ঠ অধ্যায়টি দেয়া হলো ।
তাহলে, খবর পাবার খবর নিয়ে আলোচনা করতে এগিয়ে দেখা গেলো, আমরা ই্ন্রিয় ছাড়াও অনুমানের সাহায্যে জ্ঞান পেয়ে থাকি এবং অনুমানের আসল ভিত্তি হলো এমন কোনো জ্ঞান যা সবক্ষেত্রে সত্যি এবং সত্যি হতে বাধ্য । কুইনাইন দিলে ম্যালেরিয়া সেরে যাবে-এ-কথা যদি সবক্ষেত্রেই সত্যি এবং সত্যি হতে বাধ্য না হোতো তাহলে আমরা কেমন করে অনুমান করতাম যে, এই রোগীটির ক্ষেত্রেও কুইনাইন দিয়ে ম্যালেরিয়া সারিয়ে দেওয়া যাবে?
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, সবক্ষেত্রে সত্যি আর সত্যি হতে বাধ্য-এমনতরো কোনো জ্ঞান পাওয়া যাবে কোথা থেকে?
বিজ্ঞানের কাছ থেকে ।
বিজ্ঞান কী?
প্রশ্নটার এখানে একটা একমেটে জবাব দিয়ে রাখা যায় । বিজ্ঞান হলো এমনই কিছু যার সাহায্যে ওই রকমের ‘সবক্ষেত্রে সত্যি আর সত্যি হতে বাধ্য’ জ্ঞান পাওয়া যায় । এই জবাবটাকে একমেটে বলছি কেন? কেননা, শুধু এইটুকু বললেই বিজ্ঞানের স্বরূপকে পুরোপুরি বোঝানো হয় না । এ-ছাড়াও আরো অনেক কথা বাকি থাকে । তবু, এই একমেটে জবাবটিকে পরীক্ষা করে শুরু করাই সুবিধের হবে ।
প্রথমত, বিজ্ঞান জ্ঞান দিচ্ছে এবং সে-জ্ঞানটা সত্যি, নির্ভুল । কার জ্ঞান? কী সম্বন্ধে জ্ঞান? দুনিয়ার জ্ঞান । দুনিয়া সম্বন্ধে জ্ঞান । দুনিয়া ছাড়া আমরা আর কী সম্বন্ধে জ্ঞান পেতে পারি? যা-কিছু জানতে চাই, বুঝতে চাই, তা সবই তো এই দুনিয়ার জিনিস, সবই দুনিয়ায় রয়েছে । মহাকাশের মধ্যে ছড়ানো গ্রহ নক্ষত্র নীহারিকা থেকে শুরু করে পৃথিবীর এতোটুকু ধুলোকণা পর্যন্ত-সবকিছুই এই দুনিয়ার জিনিস, দুনিয়ার মধ্যে রয়েছে ।
কিন্তু তার মানে কি এই, যে বিজ্ঞান গোটা দুনিয়াটা সম্বন্ধে একসঙ্গে একটা কোনো জ্ঞান পাবার চেষ্টা করছে? তা নয় । বৈজ্ঞানিকেরা দুনিয়াটাকে নানান ভাগে ভাগ করে নিয়েছেন আর এক এক দল বৈজ্ঞানিক এই সব ভাগের এক একটিকে নিয়ে ব্যস্ত । এই জন্যেই বলা হয়, বিজ্ঞানের নানান শাখা-নানান রকমের বিজ্ঞান ।

নানান রকম কেন? কেননা, বৈজ্ঞানিকেরা প্রকৃতিকে নানান ভাগে ভাগ করে নিয়েছেন; এক একটি বিভাগ সংক্রান্ত জ্ঞান পাবার চেষ্টা চলছে বিজ্ঞানের এক একটি শাখায় ।
কিন্তু তার মানে কি এই যে প্রকৃতির ওই রকমারি বিভাগ গুলির মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই? সম্পর্ক নেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে?

তাও নয় । একটা খুব সোজা নমুনা দেখলেই কথা বুঝতে পারা যাবে । ধরা যাক, মাটি আর গাছ । মাটির আলোচনা বিজ্ঞানের একটি শাখায়, গাছের আলোচনা বিজ্ঞানের অপর একটি শাখায়; অথচ গাছ তো আর শূন্যে গজায় না, মাটির উপরই গজায় । মাটির সঙ্গে গাছের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবীড় । তাই, বিজ্ঞানের যে-শাখায় মাটি সম্বন্ধে জ্ঞান পাবার আয়োজন, আর অন্য যে-শাখায় গাছ সম্বন্ধে জ্ঞান পাবার আয়োজন-সেই দুটির মধ্যেও সম্পর্ক থাকতে বাধ্য বই কি?
এই সম্পর্কের কথাটায় পরে ফেরা যাবে । আপাতত, যে-কথা হচ্ছিলো ।
বিজ্ঞান কী? এ-প্রশ্নের একটা একমেটে জবাব হিসেবে আমরা বললাম, বিজ্ঞান হলো এমন কিছু যার সাহায্যে আমরা দুনিয়ার জ্ঞান পাই-সে-জ্ঞান সবক্ষেত্রে সত্যি এবং সত্যি হতে বাধ্য । এই কথাটাকেই আর একটু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা বললাম, সব-বিজ্ঞানই দুনিয়ার সবকিছু একসঙ্গে জানবার চেষ্টা করে না । বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা দুনিয়ার বিভিন্ন বিভাগের জ্ঞান পাবার চেষ্টা করে ।

