Categories
বই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিজ্ঞান কি ও কেন?

পণ্ডিতী নাম ইন্দ্রিয়

দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লেখা ছোটদের জন্য “বিজ্ঞান কি ও কেন ?” বইটি ছোট ছোট অধ্যায় পোস্ট আকারে দেয়া হচ্ছে । আজ তৃতীয় অধ্যায়টি দেয়া হলো ।

দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লেখা ছোটদের জন্য “বিজ্ঞান কি ও কেন ?” বইটি ছোট ছোট অধ্যায় পোস্ট আকারে দেয়া হচ্ছে । আজ তৃতীয় অধ্যায়টি দেয়া হলো ।

আগের অধ্যায়:
খবর পাবার খবর
পাঁচ-পাঁচটি খবর-দার

এইবার, খবর্দার ! জ্ঞানীর কথা যখন উঠলো তখন একটু সাবধান হয়ে কথা বলবার অভ্যাস করতে হবে ।

পণ্ডিতদের আড্ডায় যখন বসবো তখন এই খবর-দারদের আর খবরদার বলে ডাকা চলবে না । কেননা, পণ্ডিতেরা তো আর সহজ মানুষ নন । তাঁদের সঙ্গে অমন সহজ ভাষায় কথা কওয়া চলে না ।

পণ্ডিতী নাম ইন্দ্রিয়
ছবি: দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

খবর-দারদের বদলে কী নাম দেবো ? ইন্দ্রিয় । আমরা যাদের খবর-দার বলছি, পণ্ডিতেরা তাদেরই বলেন ইন্দ্রিয় । আর ওঁদের মতে, আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় আছে । এক-কথায়, পঞ্চেন্দ্রিয় । চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক ।

কিন্তু বলবার ভাষাটাকে এইভাবে শুধরে নিলেই পণ্ডিতেরা খুশী হয়ে যাবেন নাকি ? মোটেই নয় । পণ্ডিতদের পাল্লায় একবার যদি পড়া যায় তাহলে রকমারি সমস্যার কথা শুনতে হবে । সমস্যাগুলো নিয়ে ভেবে দেখতে হবে ।

কী রকম সমস্যা ? প্রথমত, একদল বলবেন, শুধু এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে মানলেই হবে না । এ-ছাড়া আরো ইন্দ্রিয় মানতে হবে ।

সে-আবার কোন ধরনের ইন্দ্রিয় ? কী নাম তার ?

ওঁরা বলবেন, তার নাম হলো আন্তঃ- ইন্দ্রিয় । এতোক্ষণ যে-পাঁচটি ইন্দ্রিয়র কথা হলো তারা শুধু বাইরের জগৎটার খবর আনছে । তাই তারা নেহাত বহিঃ- ইন্দ্রিয় । কিন্তু খবর তো আর শুধুমাত্র বাইরের জগতের নয় । তাছাড়াও, আমরা আমাদের অন্তরের জগতের খবর পাই । যে সেই খবরগুলি সরবরাহ করে তার নাম অন্তঃ- ইন্দ্রিয় ।

এই সব খিটিমিটি তর্ক শুনে তোমার খুব রাগ হচ্ছে নাকি ? কিন্তু রোসো । এই রাগের খবরটা তুমি পেলে কী করে ? কার মারফত ? রাগকে তো আর চোখেও দেখা যায় না, চেখেও দেখা যায় না-পঞ্চেন্দ্রিয়ের কেনোটিকে দিয়ে রাগের খবর পাওয়া যায় না । রাগটা যে নেহাতই অন্তরের ব্যাপার । পঞ্চেন্দ্রিয়রা বাইরের জগৎটাকে নাগাল পায় । অন্তরের নাগাল পায় না । অথচ, রাগ যে হয়েছে সে-খবরটা তুমি পেয়েছো । যদি পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে সে-খবর তুমি না পাও তাহলে তোমাকে মানতেই হবে যে পঞ্চেন্দ্রিয়ই সব নয় । তাছাড়াও অন্তঃ-ইন্দ্রিয় বলে আর একটা কিছু আছে বই কি !

তর্কে হেরে গিয়ে তুমি লজ্জায় পড়লে । তোমার ইচ্ছে হলো, লজ্জায় মুখ ঢেকে পালিয়ে যেতে । কিন্তু, রোসো । লজ্জা যে হলো তা তুমি জানলে কেমন করে ? ইচ্ছে যে হলো তাই বা জানলে কেমন করে ? অগত্যা তুমি বললে, ওই পাঁচটি বাহির-মুখো ইন্দ্রিয় ছাড়াও আর একটি ভেতর-মুখো ইন্দ্রিয় মানতে রাজী হলাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *